উদ্দিন নামের অসাধারণ মেধাবী ছেলেটা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানপ্রেমী বাবার একমাত্র ছেলে। তার বাবা আক্কাস উদ্দিন সর্বদাই ছেলেকে শোনাতেন পশ্চিম পাকিস্তানের গুণাবলির কথা, যা মোস্তফার মোটেও ভালো লাগতো না। মোস্তফা মনে-প্রাণে ভালোবাসতো পূর্ব পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে। কিন্তু তার বাবা তাকে মোটেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে মিশতে দিতেন না। তিনি মনে করতেন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে মিশলে মোস্তফা নরকগামী হয়ে যাবে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর আক্কাস উদ্দিন পূর্ব বাংলায় আসেন পশ্চিম বাংলার হয়ে যুদ্ধ করতে। মোস্তফা তার বাবা না থাকায় চলে আসে পূর্ব বাংলায় বাবার বিনা অনুমতিতে। কিন্তু সে জানতো না ২ টা বিষয়
১.পূর্ব বাংলায় তখন যুদ্ধ চলছিলো
২.সে তার বাবা ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের দলে।
মোস্তফা পূর্ব বাংলায় এসে এর অবস্থাকে সুক্ষ্মভাবে পরিলক্ষিত করল ও বাংলার প্রতি অসাধারণ টানে সে মুক্তিযদ্ধে যোগদান করলো।
মোস্তফার মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করার কথা জানতেন না তার বাবা। কিন্তু সেদিন যুদ্ধক্ষেত্রে বাবা ও ছেলের অবস্থান ছিলো বিপরীতে। ছেলে যখন বাবাকে বিপরীতে ও বাবা যখন ছেলেকে বিপরীতে দেখলেন, তখন দুজনই অবাক হয়ে যান। সেসময় দুজনেরই হাত কাঁপতেছিলো। কিন্তু বাংলাকে মোস্তফা এতোটাই ভালোবেসে ফেলেছিল যে, কখন বন্দুকের গুলিতে বাবাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে তা সে টেরই পেল না।
লেখক: সাদিয়া নওরিন তমা,
