ঈদের দিনে সিরাজগঞ্জে গলায় ছুরিকাঘাতে চাঞ্চল্যকর শাকিল (২৩) হত্যাকাণ্ডের ৩ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই মামলার প্রধান আসামি মো. রাকিবকে (২৫) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত রাকিব সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের গুপিরপাড়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। অন্যদিকে নিহত ভিকটিম শাকিল একই ইউনিয়নের ভুরভুরিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সন্ধ্যায় ছোনগাছা বাজারের চামেলী মোড় এলাকায় শাকিলকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে সদর থানা ও ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানা এলাকা থেকে প্রধান আসামি রাকিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান,
বেশ কিছুদিন আগে আসামি রাকিব ছোনগাছা বাজার এলাকায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। দ্রুতগতিতে বাইক চালানোকে কেন্দ্র করে ভিকটিম শাকিল ও তার বন্ধুদের সাথে রাকিবের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ৩/৪ দিন আগে স্থানীয় একটি সেলুনে চুল কাটাকে কেন্দ্র করে শাকিলের সাথে আসামি রাকিব এবং তার সহযোগী সাব্বির ও অপর এক শাকিলের পুনরায় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।।
এইসব পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই ঈদের দিন (২৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছোনগাছা বাজারের চামেলী মোড় এলাকায় ওত পেতে থাকা আসামিরা শাকিলের ওপর হামলা চালায় এবং তার গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত শাকিলের ভাই মো. রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
